জন্ম বংশ পরিচয় :
ইমাম মুসলিম (রহ .) -এর নাম মুসলিম ইবনে আল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম ইবনে দরদনী আল - কুশায়রী আন - নিসাপুরী । তাঁর কুনিয়াত তথা উপনাম আবুল হুসাইন এবং উপাধী ছিল আসাকিরুদ্দীন । আরবের একটি বিখ্যাত গোত্রের নাম ছিল বনু কুশায়রা । ইমাম মুসলিম সেই গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং খুরাসানের প্রসিদ্ধ শহর নিসাপুর ছিল তাঁর আবাস ভূমি । তিনি হিজরী ২০৩ অথবা ২০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন । তাঁর জন্মের সঠিক সাল সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে । তবে ঐতিহাসিকগণের নিরীক্ষণে প্রমাণিত যে তিনি ২০৬ হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেছেন ।
শৈশব জীবন ও প্রাথমিক শিক্ষা :
ইমাম মুসলিম স্বীয় মাতা - পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত - পালিত হন এবং উত্তম শিক্ষা লাভ করেছেন । প্রথম হইতে তিনি তাকওয়া , পরহেজগারী ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী হন । জীবনে তিনি কখনও কারও গীবত বা পরনিন্দা করেন নাই এবং নিজ হাতে কাউকেও প্রহার করেন নি । নিসাপুরেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন ।
অসাধারণ মেধা শক্তির অধিকারী ইমাম মুসলিম অতি অল্পদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সকল বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করে ইলমে হাদীসের প্রতি মনোনিবেশ করেন ।
শিক্ষা জীবন :
ইমাম মুসলিম (রহ.) বার বা চৌদ্দ বছর বয়সে ইলমে হাদীস অধ্যায়নে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং তাঁর যুগের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদগণের নিকট হতে ইলমে হাদীস শিক্ষাও গ্রহণ করেন । তাদের মধ্যে বিশেষভাবে ইয়াহ্ইয়া ইবনে ইয়াহ্ইয়া আত - তামীমী কানবী , মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া নিসাপুরী, আহমদ ইবনে ইউনুছ , ইসমাঈল ইবনে আবি উবাস প্রমুখ । অল্প দিনের মধ্যে ইমাম মুসলিম (রহ.) স্বীয় সাধনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে হাদীস শাস্ত্র দক্ষতা অর্জন করে ইমামের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন ।
ঐতিহাসিকদের মতে ইমাম মুসলিম (রহ.) হযরত মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া যুহলী নিসাপুরী ও হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে ইয়াহ্ইয়া নীসাপুরীর নিকট হাদীস শিক্ষার সময়ে ইমাম বোখারী (রহ.) ও তাঁদের নিকট হাদীস অধ্যয়ন করতেন । ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া ও ইমাম ইয়াহ্ইয়া ইবনে ইয়াহ্ইয়া হাদীস শাস্ত্রে যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন । ইমাম বোখারী (রহ.) ও ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদীস অধ্যয়নকালে তাদের উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া যুহলীর সাথে একটি বিষয়ে ইমাম বোখারী ভিন্নমত পোষণ করেনে । ক্রমে এই বিরোধ এতই তীব্র আকার ধারণ করল যে, ইমাম বোখারী (রহ.) ইমাম যুহলীর পাঠ ত্যাগ করে চলে আসলেন । এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিন ইমাম যুহলী স্বীয় পাঠকক্ষে ঘোষণা করেন যে , ইমাম বোখারীর সাথে যেন তার কোন শিষ্য মিলিত না হয় । কিন্তু ইমাম বোখারীর সাথে ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর গভীর সম্পর্ক ছিল । তিনি ইমাম বোখারীর সাথে মিলিত হতেন এবং তার নিকট হতে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করতেন ।
এই বিষয়টি ইমাম যুহলী স্বীয় শিষ্যদের মাধ্যমে অবগত হয়ে সহসা ঘোষণা দিলেন- “ বিশেষ একটি মাস'আলা সম্পর্কে যে ব্যক্তি ইমাম বোখারীর ন্যায় বিশ্বাস করে এবং তার রায় গ্রহণ করে, সে যেন আমার এই মজলিস হতে চলে যায় । এই ঘোষণা শ্রবণের সংগে সংগে ইমাম মুসলিম (রহ.) উঠে দাঁড়ালেন এবং তার পাঠ ত্যাগ করেন । অতঃপর ইমাম মুসলিম (রহ.) অত্যন্ত ভদ্রতা ও বিনয়ের সাথে ইমাম যুহলীর নিকট হতে লিপিবদ্ধকৃত সকল হাদীস ফেরত দেন । তারপর তার নিকট হতে আর কোন হাদীস বর্ণনা করেন নি ।
ইলমে হাদীস অন্বেষণে দেশ ভ্রমণ :
ইমাম মুসলিম (রহ.) ইলমে হাদীস শিক্ষা লাভ করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন মুসলিম জাহানের প্রায় সকল কেন্দ্রেই গমন করেছেন । হিজায , সিরিয়া , মিশর , রায় , ইয়ামান ও বাগদাদ প্রভৃতি শহরে উপস্থিত হয়ে সে স্থানে অবস্থানকারী প্রসিদ্ধ ইলমে হাদীসের উস্তাদ ও মুহাদ্দিছগণের নিকট হতে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেন । তাদের মধ্যে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল , ইসহাক ইবনে রাহওয়াই , আকুল্লাহ ইবনে মাসলামা কানবী , মুহাম্মদ মেহরান জামাল , আবু গাস্সাল সাইদ ইবনে মনসুর ও আবু মূসাইয়াব প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।
অধ্যাপনা জীবন :
ইমাম মুসলিম (রহ.) ইলমে হাদীসে দক্ষতা অর্জন করে উত্তাকে শিক্ষা প্রদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন । তাঁর নিকট হতে প্রসিদ্ধ কয়েকজন ছাত্র , শিষ্য হাদীস শিক্ষা লাভ করেছেন । অধিকন্তু সেই যুগের বড় বড় মুহাদিছীনে কিরামও তাঁর নিকট হতে হাদীস শিক্ষা গ্রহণ করেছেন ।
আরো পড়ুন : ইমাম বুখারী রহ.এর জীবনী
ইমাম মুসলিম (রহ.) হতে যারা ইলমে হাদীস শিক্ষা ও ফয়েয লাভ করেছেন তাদের মধ্যে আবু হাতিম আর - রাযী, ইব্রাহিম ইবনে আবী তালিব, ইবনে খুযায়মা, আবু আওয়ানা , আবু হামিদ শরকী, আবু হামিদ আহমদ ইবনে জামদান, মূসা ইবনে হারুন, আহমদ ইবনে সালাম, ইয়াহ্ইয়া ইবনে সাঈদ, মুহাম্মদ ইবনে মালাদ, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান, আবু মুহাম্মদ আহমদ ইবনে আলী কালানসী প্রমুখ । ইমাম তিরমিযীও তার নিকট হতে একটি হাদীস গ্রহণ করেছেন ।
হাদীস শরীফের সংকলন ও রচনাবলী :
ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর শ্রেষ্ঠ অবদান হল তাঁর সংকলিত “ আস্ - সহীহ লিমুসলিম । "তিনি বিভিন্ন মুসলিম দেশের জ্ঞান কেন্দ্র সফর শেষে সুদীর্ঘ পনের বৎসর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবিশ্রান্ত সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে চার লক্ষ হাদীস সংগ্রহ করেন এবং সেইগুলো হতে এক লক্ষ পুনরাবৃত্ত হাদীস বাদ দিয়ে তিন লক্ষ হাদীস সংকলন করেছেন । এই তিন লক্ষ হাদীস যথেষ্ঠ যাঁচাই বাছাই করে যেগুলো সর্বাদিক হতে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে সেইগুলো নির্বাচন করে “ আস্ - সহীহ লিমুসলিম ” সংকলন করেছেন । অর্থাৎ, তিন লক্ষ হাদীস হতে বার হাজারের কিছু বেশি হাদীস নির্বাচন করে সহীহ মুসলিম শরীফের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বাকিগুলো পরিত্যাগ করেছেন ।
তাঁর কতিপয় সংকলিত কিতাব ইমাম মুসলিম (রহ.) সহীহ মুসলিম শরীফ ছাড়াও কতিপয় উত্তম ও মূল্যবান কিতাব সংকলন ও রচনা করেছেন । এই সকল গ্রন্থসমূহের মধ্যে- ( ১ ) আল - মসনাদ - আল - কবির । ( ২ ) আল - জামেয়া - আল কবির । ( ৩ ) কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা । ( ৪ ) কিতাবুল ইলাল । ( ৫ ) কিতাবুল ইছয়াল । ( ৬ ) হাদীসে আমর ইবনে শোয়াইব । ( ৭ ) মাশায়িখে মালিক । ( ৮ ) মাসারিখ ছোরী । ( ৯ ) আওহামুল মুহাদ্দিছীন । ( ১০ ) কিতাব তবকাত প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।
ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর ওফাত :
ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর ওফাত সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ এক বিস্ময়কর ঘটনা বর্ণনা করেছেন । একবার জনৈক ব্যক্তি ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর নিকট একটি হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন । উক্ত হাদীসখানা সম্পর্কে ইমাম মুসলিম (রহ.) - এর তাৎক্ষণিকভাবে কোন ধারণা ছিল না এই জন্য তিনি কোন উত্তর না দিয়ে স্বীয় গৃহে ফিরে আসেন এবং হাদীসটি স্বীয় পাণ্ডুলিপিসমূহে অনুসন্ধান করতে থাকেন এবং লিপিবদ্ধ করা হাদীসগুলো তিনি উলট - পালট করে দেখতে ছিলেন । এই সময় তাঁর নিকট খোরমা খেজুরের টুকরী রাখা ছিল । হাদীস অনুসন্ধান কাজে তিনি এতই মগ্ন হয়ে পড়ছিলেন যে , এক একটি খেজুর করে মুখে দিয়ে খেয়েছেন আর হাদীস তালাশ করছেন । এইভাবে খেজুরের টুকরী খালি হয়ে যায় এবং হাদীসখানাও তিনি খুঁজে পান । অতিরিক্ত খেজুর খাবার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেই রোগেই তিনি ২৬১ হিজরী সালে ২৪ শে রজব রবিবার সন্ধার সময় কমবেশি ৫৫ বছর বয়সে ইহধাম ত্যাগ করেন । নিসাপুরে তার দাফন করা হয়।
ইমাম আবু হাতিম রাযী (রহ.) বলেছেন , ইন্তিকালের পর আমি ইমাম মুসলিম (রহ.) কে স্বপ্নে দেখেছি এবং তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । তিনি বললেন , " আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য বেহেস্তের সকল স্থান জায়েয করে দিয়েছেন , যেই স্থানে ইচ্ছা আমি সেই স্থানেই থাকতে পারি ।
ইমাম আবু আলী জাউনী (রহ.) বলেছেন , কোন এক ব্যক্তি ইমাম মুসলিম (রহ.) কে স্বপ্নে দেখেছেন যে, তিনি বেহেস্তে আছেন । কিরূপে নাজাত পেয়েছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “ আমার হাতে সহীহ মুসলিম শরীফের যে খন্ডটি রয়েছে উহার বদৌলতেই আমি নাজাত লাভ করেছি । ”
ইমাম মুসলিম (রহ.) সম্পর্কে ইমামুল হাদীস ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিগণের মন্তব্য :
ইমাম মুসলিম (রহ.) হাদীস শাস্ত্রে বিশাল ও মহাজ্ঞানের অধিকারী ছিলেন । তিনি যে হাদীস শাস্ত্রে ইমাম ছিলেন এই বিষয়ে বিশ্বের সকল হাদীস বিশেষজ্ঞগণ সম্পূর্ণ একমত । তাঁরা সকলেই ইমাম মুসলিমের অতি উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করেছেন ।
ইমাম আবু যুরআ এবং হাতিম (রহ.) স্বীয় যুগের বড় বড় মাশায়িখ হতে ইমাম মুসলিমকে সর্বোচ্চ স্থান দিতেন । প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াই ইমাম মুসলিম ( রহ . ) সম্পর্কে বলেছেন - " কোন ব্যক্তি কি তার ন্যায় হতে পারে ? ”
একদিন মুহাদ্দিছ ইসহাক ( রহ . ) ইমাম মুসলিম ( রহ . ) কে বলছিলেন , যতদিন আল্লাহ তা'য়ালা আপনাকে মুসলমানগণের জন্য হায়াত রাখবে ততদিন তারা কল্যাণ হতে বঞ্চিত হবে না । ইমাম আবু কুরাইশ আল - হাকিম বলেছেন : হাফিযুল হাদীসের সংখ্যা চারজন । এই চারজনের মধ্যে ইমাম মুসলিম (রহ.) হলেন একজন । ইমাম মুসলিমের মহামূল্যবান সংকলনসমূহ ও রচনাবলী তার গভীর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের অকাট্য প্রমাণ বহন করে ।
সহীহ মুসলিম শরীফ :
ইমাম মুসলিম ( রহ . ) - এর সংকলিত সহীহ হাদীস গ্রন্থের নামই হল ‘ সহীহ মুসলিম শরীফ । ' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র হাদীসের উপর সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ছয়খানা গ্রন্থই সর্বাধিক বিশুদ্ধ । বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে পবিত্র কোরআনের পরই এই সকল সহীহ হাদীস গ্রন্থসমূহের স্থান । ইসলামী পরিভাষায় এই ছয়খানি হাদীস গ্রন্থ ‘ সিহাহ্ সিত্তাহ্ ' নামে অভিহিত । আর মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামী শরীআতের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে এই বিষয়ে কোন মতবিরোধ নাই যে , আসৃসিহাহ্ আসিত্তাহ্ ’ গ্রন্থসমূহের মধ্যে ইমাম বোখারীর সংকলিত সহীহ বোখারী শরীফ বিশুদ্ধতায় সর্বশ্রেষ্ঠ । আর ইহার পরই ইমাম মুসলিমের সংকলিত সহীহ মুসলিম শরীফের স্থান । ইমাম মুসলিম ( রহ . ) সরাসরি স্বীয় উস্তাদগণের নিকট হতে শ্রুত তিন লক্ষ হাদীস হতে যাঁচাই বাছাই করে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সহীহ হাদীসসমূহ চয়ন করে এই পবিত্র গ্রন্থ হাদীসসহ মোট বার হাজার হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেছেন । আর পুনঃপুনঃ উল্লিখিত হাদীসসহ বাদে উহাতে প্রায় চার হাজার সহীহ হাদীস রয়েছে । ( তাদরীবুর রাবী- ৩০ )
ইমাম মুসলিম ( রহ . ) শুধুমাত্র নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞান বিবেচনার উপর ভিত্তি করে কোন হাদীসকে এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেন নি ; বরং প্রত্যেকটি হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমসাময়িক অন্যান্য হাদীস বিশেষজ্ঞগণের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং তারা যেই সকল হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন সেই সকল সহীহ হাদীসসমূহকে তিনি স্বীয় সহীহ মুসলিম শরীফ - এ সংকলন করেছেন ।
আরো পড়ুন : ইবাদত কাকে বলে
সহীহ মুসলিম শরীফ সংকলন সমাপ্ত করার পর তিনি ইহাকে তদানীন্তন প্রখ্যাত হাফিযুল হাদীস ইমাম আবু যুরআ রাযীর সম্মুখে উপস্থিত করেন । এই সম্পর্কে ইমাম মুসলিম ( রহ . ) নিজেই বলেছেন , “ আমি আমার এই কিতাবখানি ইমাম আবু যুরআ রাযীর সম্মুখে উপস্থিত করেছি । তিনি যে সকল হাদীসের সনদে ত্রুটি রয়েছে বলে ইঙ্গিত করেছেন আমি সেই সকল হাদীস পরিত্যাগ করেছি । ( অর্থাৎ , এই গ্রন্থ হতে বাদ করে দিয়েছি ) আর যে সকল হাদীস সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে , উহা সহীহ এবং উহাতে কোন প্রকার দোষ - ত্রুটি নাই , আমি সেই সকল হাদীস এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি । ” ইহা হতে প্রমাণিত হয় যে , ইমাম মুসলিম ( রহ . ) কেবলমাত্র স্বীয় জ্ঞান ও বুদ্ধি - বিবেচনার উপর ভিত্তি করে কোন হাদীসকে সহীহ মনে করে তার সহীহ মুসলিমে অন্তর্ভুক্ত করেন নি , বরং প্রত্যেকটি হাদীসের বিশুদ্ধতার বিষয়ে সমসাময়িক অন্যান্য হাদীস বিশারদগণের নিকটও পরামর্শ চেয়েছেন এবং তারা যেই সকল হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ একমত হয়েছেন শুধুমাত্র সেই সকল হাদীসই তাঁর অমূল্য হাদীস গ্রন্থ “ সহীহ মুসলিম শরীফ " -এ লিপিবদ্ধ করেছেন । এই সম্পর্কে তিনি বলেছেন- কেবলমাত্র আমার বিবেচনায় সহীহ হাদীসসমূহই আমি এই কিতাবে সন্নিবেশিত করি নাই ; বরং এই কিতাবে কেবলমাত্র সেই সকল হাদীসই সন্নিবেশিত করেছি যার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে হাদীস বিশারদগণ একমত । ” ইমাম মুসলিম ( রহ . ) সংকলিত হাদীস গ্রন্থ " সহীহ মুসলিম শরীফ " এ সন্নিবেশিত হাদীসসমূহের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে দাবী করে বলেছেন , “ পৃথিবীর মুহাদ্দিছগণ যদি দুইশত বৎসর পর্যন্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করে থাকেন । তথাপি তাদেরকে অবশ্যই এ সনদযুক্ত বিশুদ্ধ কিতাবের উপর নির্ভর করতে হবে । ” আর এ কিতাবের উপরই তাদেরও বিশ্বাস অবিচল থাকবে ।
ইমাম মুসলিম ( রহ.) - এর এ দাবী মিথ্যা নয় । ইহা এক বাস্তব সত্যরূপেই পরবর্তীকালের মুহাদ্দিছীনের নিকট প্রমাণিত হয়েছে । ইতিহাসও ইহার যথার্থতা প্রমাণিত করেছে যে , আজ প্রায় এগার বৎসরের অধিককাল অতিক্রান্ত হবার পর উহার সমপর্যায়ের উন্নত বিশুদ্ধ গ্রন্থ রচনা হয় নাই । অধিকন্তু এ কিতাবের উপর বিশ্বের মুহাদ্দিছগণসহ সকল উম্মতে মুসলিমার আস্থা ও বিশ্বাস অবিচল রয়েছে । আল্লাহ তা'য়ালা ইমাম মুসলিম ( রহ . ) - এর ' সহীহ মুসলিম শরীফ'কে কবুল করেছেন । উহার ফলশ্রুতিতেই আজ কেন অদূর ভবিষ্যতেও উহার সৌন্দর্য , বিশুদ্ধতা বিশ্ব মানবকে বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন আলো দান করবে ।
ইমাম মুসলিম ( রহ . ) স্বীয় গ্রন্থখানির বিশুদ্ধতা রক্ষার্থে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন । তাই তিনি সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দামার পর হাদীসের সনদ ও মতন ব্যতীত অন্য কিছু লিপিবদ্ধ করেন নি । এমনকি তিনি নিজের পক্ষ হতে তরজমাতুল বাব ' পর্যন্ত লিখেন নি । কিন্তু তাঁর সহীহ গ্রন্থের হাদীস শরীফসমূহের স্থাপন বিন্যাস যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করেছেন উহার ' তরজমাতুল বাব ' সহজে নির্ধারণ করা যায় । ফলে পরবর্তী সময়ে সহীহ মুসলিম শরীফের প্রখ্যাত ব্যখ্যাকার ইমাম নববী ( রহ . ) তরজমাতুল বাব ' অর্থাৎ , হাদীসের শিরোনাম লিপিবদ্ধ করে দিয়েছে ।
বিখ্যাত মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে সহীহ মুসলিম শরীফের বৈশিষ্ট্য :
হাফিয মুসলিম ইবনে কুতবী সহীহ মুসলিম শরীফ সম্পর্কে বলেছেন- ইসলামে এরূপ আর একখানি গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয় নি । ” সেই ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন যে, সহীহ মুসলিমের বিশেষত্ব হল ইমাম মুসলিম (রহ.) এক একটি হাদীসকে যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং একটি বিষয়ের উপর বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসকে একত্রিত করে স্থাপন করেছেন যার কারণে ইলম অন্বেষণকারীগণের উহা হতে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত সহজ হয়েছে । কিন্তু এই পদ্ধতি ইমাম বোখারী স্বীয় বোখারীতে অবলম্বন করেন নি ।
ইমাম হাফিয আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইয়ামানী সহীহ মুসলিমের প্রশংসার কয়েকটি কবিতা লিপিবদ্ধ করেছেন । যার মর্ম হল- সহীহ মুসলিম জ্ঞানের সাগর । যার পানি নির্গত হবার রাস্তা নাই অর্থাৎ পানি এক স্থানে সমাকৃত । আর ইমাম মুসলিমের রিওয়ায়াত সমূহের পদ্ধতি ইমাম বোখারীর রিওয়ায়াতের পদ্ধতি হতে অধিক চমৎকার ; উহা পাঠে স্বাদ পাওয়া যায় ।
হাফিয ইবনে সালাম বলেছেন যে, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের শর্ত হল সনদসমূহ মুত্তাসিল হওয়া অর্থাৎ, প্রথম সনদ হতে শেষ সনদ পর্যন্ত একজন নির্ভরযোগ্য ( সিকাহ) রাবী অন্য নির্ভরযোগ্য রাবী হতে বর্ণনা করা । আর উহাতে কোন ত্রুটি থাকতে পারবেনা ।
সুয়ূতী ( রহ .) বলেন , ছিকাহ দ্বারা মর্ম হল, যে রাবী ইমাম মুসলিমের নিকট নির্ভরযোগ্য যদিও অন্যদের নিকট ছিকাহ না হোক । এই জন্য ইমাম মুসলিম ৬১৫ জন এমন রাবী হতে বর্ণনা করেছেন যাদের নিকট হতে ইমাম বোখারী রিওয়ায়াত করেন নি । অনুরূপভাবে ইমাম বোখারী ৪৩৪ জন এমন রাবী হতে রিওয়ায়াত গ্রহণ করেছেন যাদের নিকট হতে ইমাম মুসলিম গ্রহণ করেন নি । এর কারণ , ছিল নির্ভরযোগ্য (ছিকাহ) রাবী হওয়ার জন্য যে সকল শর্তারোপ করা হয়েছে উহার দুই একটির মধ্যে উভয়ের সামান্য পার্থক্য রয়েছে ।
মুহাদ্দিছগণ সহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে একমত । শুধু তাই নয় । পরবর্তীকালের কয়েকজন যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছের মতে সহীহ বোখারী শরীফের তুলনায় সহীহ মুসলিম শরীফ অধিক বিশুদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ ।
প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ কাযী আয়ায (রহ.) বলেছেন যে , আমার কয়েকজন হাদীসের উস্তাদ যারা প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ ছিলেন তারা সহীহ বোখারী অপেক্ষা সহীহ মুসলিম শরীফকে অগ্রাধিকার প্রদান করতেন ।
আরো পড়ুন : সালাতুত তাসবীহ
হাফিয ইবনে মানদাহ বলেছেন : سمعت ابا على النسابورى يقول ما رايت احفظ منه ما تحت اديم السماء اصح من كتاب مسام অর্থাৎ , “ আমি বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হাফিয আবু আলী নীসাপুরীকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তারমত হাদীসের বড় বড় হাফিয আমি আর একজনও দেখিনি । আকাশের নিচে ইমাম মুসলিমের হাদীস গ্রন্থ অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ কিতাব ( কোরআন মজিদ ব্যতীত ) আর একখানিও নাই । ”
সহীহ মুসলিমকে অগ্রাধিকার প্রদানের কারণ হল, ইমাম মুসলিম কোন বিষয়ের উপর বর্ণিত সকল মতন যা বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে একই স্থানে একত্রিত করে লিপিবদ্ধ করেছেন উহাদেরকে বিভিন্ন অধ্যায়ে পৃথক পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করেন নি । আর তিনি সম্পূর্ণ বাক্যকে বর্ণনা করে দিয়েছেন । হাদীসের শিরোনামে খণ্ড খণ্ডভাবে লিখেন নাই- যেমন সহীহ বোখারী শরীফে করা হয়েছে । তাছাড়া ইমাম মুসলিম হাদীসের শব্দ হুবহু রেখেছেন রিওয়ায়াত বিল মায়ানী (অর্থ সামঞ্জস্য রেখে) বর্ণনা করেন নি । কোন এক রাবী অন্য রাবীর সাথে একটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য হয় আর উভয় শব্দের অর্থ এক হলেও ইমাম মুসলিম প্রত্যেক রাবীর বর্ণিত শব্দ স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন । তিনি এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যে, যদি এক রাবী حدثنا বলেছেন আর অন্য রাবী اخبرنا তখন তিনি লিখেছেন যে, অমুক রাবী حدثنا বলেছেন আর অমুক রাবী اخبرنا বলেছেন । আর তিনি হাদীসের সাথে সাহাবাগণের কথা এবং তাবেঈন ও অন্যান্যদের কথা ইত্যাদি এবং অধ্যায় ও হাদীসের শিরোনামকেও সংমিশ্রণ করেন নি । তাই সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দামা - এরপর হাদীসের মধ্যে সনদ ও মতন ব্যতীত অন্য কিছুই লিপিবদ্ধ করেন নি ।
ইমামুল হারামাইন বলেছেন , যদি কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর তালাকের ব্যাপারে কসম করে যে , ইমাম বোখারী এবং ইমাম মুসলিমের মতে যে সকল হাদীস সহীহ উহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী- তার স্ত্রী তালাক হবে না । কারণ , উভয় কিতাবদ্বয়ের হাদীসসমূহ সহীহ ( বিশুদ্ধ ) । সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিমের বিশুদ্ধতার উপর ওলামাগণের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । আর যে সকল হাদীস সহীহ হবার উপর ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম ( রহ . ) একমত হয়েছেন সে সকল হাদীস সহীহ হওয়ার উপর সকল উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐকমত্য রয়েছে ।
সহীহ মুসলিম শরীফের মর্যাদাগত স্থান:
আসসিহাহ্ আসৃসিত্তাহ - এর মধ্যে সহীহাইনের স্থান সর্বোচ্চ পর্বত অভিমত । এতে কারো মতবিরোধ নেই । সহীহ মুসলিম ও সহীহ বোখারীর মধ্যে কোনটি অধিক নির্ভরযোগ্য এই বিষয়ে মতভেদ থাকলে অনেকে এই ধরণের মীমাংসা দিয়েছেন যে , কোন কোন দিক দিয়ে সহীহ বোখারীর স্থান ঊর্ধ্বে এবং কোন কোন দিক দিয়ে সহীহ মুসলিম শরীফের স্থান ঊর্ধ্বে । হাফিয আব্দুর রহমান ইবনে আলী আর - রাবী ইয়ামানী শাফেয়ী বলেন । تنازع قوم في البخاري ومسلم * لدى وقالوا اي دين يقدم فقلت لقد فاق البخارى صحة * كما فاق في حسن الصناعة مسلم অর্থাৎ , " লোকেরা আমার নিকট সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিনের কোন অগ্রাধিকার প্রদানযোগ্য সে সম্পর্কে বিতর্ক আরম্ভ করে । আমি বললাম, বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে সহীহ বোখারী এবং উত্তম সাজানোর দিক দিয়ে সহীহ মুসলিম অগ্রাধিকার পাবার যোগ্য । ”
খতীবে বাগদাদী (রহ.) বলেছেন যে, ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ মুসলিমে বোখারীর অনুসরণ করেছেন । আবু যুরআ রাযী ও আবু হাতিম ইমাম মুসলিমের হাদীস শাস্ত্রে জ্ঞান বিশালতার কারণে তাকে হাদীসের এবং আহলে হাদীসের ইমাম মনে করেন । আবু ওমর ইবনে আহমদ ইবনে হামদার ( রহ . ) বলেছেন , আমি আবুল আব্বাস ইবনে উকবার নিকট জিজ্ঞাসা করছিলাম যে , ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম উভয়ের মধ্যে কার মর্যাদা ঊর্ধ্বে । তিনি বলেছেন , উভয়ে বিজ্ঞ আলিম ছিলেন । দারাকুতনী বলেছেন , যদি ইমাম বোখারীর আবির্ভাব না হত তাহলে ইমাম মুসলিম এই রাস্তার সন্ধান পেতো না । একথার উদ্দেশ্য হল ইমাম মুসলিম ইমাম বোখারীর নিকট হতে ইলমে হাদীসে অনেক উপকৃত হয়েছেন ।
সারকথা :
কোন কোন দিক দিয়ে সহীহ বোখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে একটি অপরটির উপর অগ্রাধিকার থাকলেও সার্বিক দিক দিয়ে সহীহ বোখারীর পর সহীহ মুসলিম শরীফের স্থান ; এ কথাই সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত ।
সহীহ মুসলিম শরীফের পরম্পরা বর্ণনা ধারা :
ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সংকলিত ' সহীহ মুসলিম শরীফ ' তার নিকট হতে অনেক শিষ্য শ্রবণ করেছেন । এবং তার সূত্রে ইহা বর্ণনা করেছেন । কিন্তু ঠিক যার সূত্রে এই সহীহ মুসলিমের পরম্পরা বর্ণনা ধারা সর্বত্র বিশেষভাবে এতদুদ্দেশ্যে বর্তমান যুগ পর্যন্ত চলে
আসতেছে, তিনি হলেন ইমাম মুসলিমের সুযোগ্য শিষ্য প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ শায়খ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফইয়ান নিসাপুরী । তিনি ৩০৮ হিজরীতে পরলোক গমন করেন । ইব্রাহিম ইবনে সুফইয়ানের সাথে ইমাম মুসলিমের এক বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল । তিনি সবসময় ইমাম মুসলিমের সাহচর্যে থাকেন এবং তার নিকট হাদীস অধ্যায়ন করতেন ।
ইমাম মুসলিমের আর একজন শিষ্য আবু মুহাম্মদ আহমদ ইবনে আল কালানসী । তার সূত্রে সহীহ মুসলিম বর্ণিত হয়েছে ; কিন্তু এই সূত্রে বর্ণনা ধারা পরস্পরা যেমন সম্পূর্ণ নয় তেমনি তা বেশি দিন চলতেও পারে না ।
সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ বা শরাহ সমূহ :
ইলমে হাদীসের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যায় বহু ওলামায়ে কিরাম ব্যাখ্যা গ্রন্থ বা শরাহ লিপিবদ্ধ করেছেন । বিশেষ বিশেষ কতগুলোর নাম নিম্নে প্রদত্ত হল ।
১. ইমাম হাফিয আবু যাকারিয়া মহীউদ্দিন নববী-শাফেয়ী একটি শরাহ লিপিবদ্ধ করেছেন যা বর্তমান সময়ে মূল সহীহ মুসলিম শরীফের সাথে রচিত । হিন্দুস্তান হতে প্রকাশিত হয়েছে । ইহা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ শরাহ ।
২. পরবর্তী সময়ে নববী (রহ.)- এর শরাহ্ গ্রন্থখানার সার সংক্ষেপ করে একটি সংক্ষিপ্ত শরাহ্-এর রূপ দিয়েছেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ তুনুবী
৩. আকমালুল মুসাল্লিম ফি শরহে সহীহ মুসলিম । প্রণেতা কাযী আয়্যায় মালিকী (রহ.) ।
৪. আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ওমর ইবনে ইব্রাহিম কুরতুবী একটি শরাহ লিখেছেন । যা নববী (রহ.) - এর শরাহ হতে শ্রেয় ।
৫. ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে খলিফা মালিকী । চারখণ্ডে একটি শরাহ লিখেছেন ।
৬. আল - মু'লিম ফি ফাউয়াহিদে কিতাবে মুসলিম ' প্রণেতা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী মায়ূরী (রহ.) ।
৭. আল মুফহিম ফি শরহে গবীরুল মুসলিম । প্রণেতা মাহিদুর গফির ইবনে ইসমাঈল ফারসী ( রহ . ) ।
৮. আবুল ফরয ঈসা ইবনে মাসযূর যাওয়াদী (রহ.) । পাঁচ খণ্ডে সহীহ মুসলিমের শরাহ লিখেছেন ।
৯. ' সিনহাজুদ দাবীজ ' প্রণেতা ইমাম কুসতুলানী (রহ.) ।
১০. আল্লামা মোল্লা আলী কারী রা । চার খণ্ডে একটি শরাহ লিখেছেন ।
১১. ফাতহুল মুলহিম’ প্রণেতা আল্লামা শাব্বীর আহমদ উছমানী (রহ.) । বর্তমান যুগে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য । আরব ভাষা ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় এই অমূল্য সহীহ মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা ও অনুবাদ গ্রন্থ লিখিতে হয়েছে । মুহাদ্দিছ নিয়ামতুল্লাহ (দা.বা.) উর্দু ভাষায় ‘ নি'আমাতুল মুনয়িম ' লিখেছেন । মুহাদ্দিছ ওহীদুজ্জামান (রহ.) উর্দু ভাষায় নববী শরাহের সংক্ষিপ্ত সহজ সহীহ মুসলিম শরীফের অনুবাদ লিখেছেন । ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ সম্পাদনা পরিষদের মাধ্যমে সহীহ মুসলিমের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে ।
এই সকল ব্যাখ্যাগ্রন্থ ব্যতীত সহীহ মুসলিম শরীফের সঠিক মর্ম অনুধাবনের জন্য বিশিষ্ট মুহাদ্দিছীনে কিরাম স্বীয় ইলম কাজে লাগিয়ে এই খেদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন । সুতরাং সহীহ মুসলিমের উপর টীকা , হাশিয়া এবং মুখতাছিরাত লিপিবদ্ধ হয়েছে ।
আরো পড়ুন : একজন আলেমের পরিচয়
সুত্র: হায়াতুল মুছান্নিফীন

0 মন্তব্যসমূহ