বর্ণিত আছে, জনৈক যুবক সম্রাট রাজত্বের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। কিন্তু তিনি তাতে কোনো তৃপ্তি পাচ্ছিলেন না। একদা তিনি স্বীয় সভাসদবর্গকে বললেন, এ ব্যাপারে সকল মানুষ কি আমার মতোই, না অন্য রকম? তারা তাকে বললো, জনগণ ঠিক মতোই আছে। বাদশাহ তাদেরকে বললেন, কোন্ বস্তু আমার শাসন ক্ষমতাকে স্থায়ী করে দিবে? তারা বললো, আলেম সমাজ আপনার রাজত্ব স্থায়ী করে দেবে। অতএব, তিনি (বাদশাহ) স্বীয় শহরের ওলামা ও পূণ্যবান লোকদেরকে আহ্বান করলেন এবং বললেন, আপনারা আমার নিকট অবস্থান করুন। আল্লাহর আনুগত্যের যে সকল বিষয় আমার মধ্যে প্রত্যক্ষ করবেন সে বিষয়ে আমাকে নির্দেশ করবেন। আর আমার থেকে কোনো গুনাহের কাজ দেখলে তা থেকে আমাকে নিষেধ করবেন। তারা তাই করলেন। ফলে তার রাজত্ব চারশ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হলো।
এরপর বাদশাহর নিকট একদিন ইবলিস আসলো, (তার ওপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক) বাদশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলো । তুমি কে? সে বললো, আমি ইবলিস, কিন্তু আমাকে বলো, তুমি কে? বাদশাহ্ বললেন, আমি একজন আদম সন্তান। ইবলিস তাকে বললো, যদি আপনি আদম সন্তান হতেন তবে তো অন্যান্য আদম সন্তানের ন্যায় আপনিও মারা যেতেন, আপনি তো ম’বুদই বটে। আপনি লোকদেরকে আপনার ইবাদত করার জন্যে আহ্বান করুন। এতে বাদশাহর অন্তরে গোমরাহী প্রবিষ্ট হলো।
ফলে তিনি মঞ্চে আরোহণ করে (লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, হে লোকসকল! আমি এতোদিন একটি বিষয় তোমাদের থেকে গোপন রেখেছিলাম। এখন তা প্রকাশ করার সময় এসেছে। তোমরা জানো যে, আমি চারশো বছর ধরে তোমাদের বাদশাহ রয়েছি। আমি যদি আদম সন্তান হতাম, তবে অন্যান্য আদম সন্তানের মতো আমিও মরে যেতাম। বস্তুত আমি খোদা। সুতরাং (এখন থেকে) তোমরা আমার ইবাদত করবে। আল্লাহ পাক তখন সমকালীন নবীর প্রতি ওহী পাঠালেন, তুমি তাকে (বাদশাকে) জানাও, যতোদিন সে সঠিক পথে ছিলো আমি তার রাজত্বকে ঠিক রেখেছি। কিন্তু যখন সে নাফরমানীর প্রতি ধাবিত হয়েছে, তখন আমার মর্যাদা ও প্রভাব পরাক্রমের শপথ করে বলছি, আমি তার প্রতি জালিম বাদশাহ্ বুখত নসরকে অবশ্যই চাপিয়ে দেবো। অতএব, আল্লাহ্ তায়ালা তার প্রতি বুখতে নসরকে চাপিয়ে দিলেন। ফলে সে বাদশার গর্দান উড়িয়ে দিলো এবং রাজকোষ থেকে সত্তর নৌকা ভর্তি করে স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে গেলো। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
.png)
0 মন্তব্যসমূহ