Header Ads Widget

উপস্থিত বুদ্ধি



হযরত আলী ( রাযিঃ ) ছিলেন মুসলিম জাহানের চতুর্থ খলীফা । প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন , আমি হলাম জ্ঞানের শহর আর আলী হলো সে শহরের দরজা । মহান আল্লাহ তাআলা হযরত আলী ( রাযিঃ ) কে দান করেছিলেন অসাধারণ ধীশক্তি । উপস্থিত বুদ্ধিতে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় । বিচার ফায়সালায় তার সমকক্ষ আর কেউ ছিলো না বললেই চলে । তিনি তাঁর অসাধারণ জ্ঞানশক্তি দ্বারা অনেক জটিল বিষয়কেও অত্যন্ত সহজে সমাধা করে দিতেন । 


একদিনের ঘটনা । হযরত আলী ( রাযিঃ ) এর সামনে দু'জন লোক উপস্থিত করা হলো । তাদের অবস্থা এই ছিলো যে , একজন অপরজনকে চোর বলে অভিযুক্ত করছে । ফলে প্রকৃত চোর কে তা কোনক্রমেই ঠিক করা যাচ্ছে না , আর এ কথাও নিশ্চিত যে , দু'জনই চোর নয় । চোর দু'জনের যেকোন একজন । এভাবেই বিষয়টি হয়ে পড়লো জটিল । হযরত আলী ( রাযিঃ ) চিন্তা - ভাবনা করে একটি পদ্ধতি বের করলেন । এখানেই হযরত আলী ( রাযিঃ ) এর বিচক্ষণতা ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রমাণ মিলে । হযরত আলী ( রাযিঃ ) তাদের দু'জনকে একটি জানালার কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন যে , তোমরা তোমাদের মাথা বাইরের দিকে ঝুঁকিয়ে দাও আমি যতক্ষণ মাথা ফিরিয়ে আনতে না বলবো , ততক্ষণ তোমরা এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে । 


এরপর হযরত আলী ( রাযিঃ ) এক বিশেষ ভংগিতে বললেন -  ইতিমধ্যেই আমি চোরকে চিনে ফেলেছি । সুতরাং কোথায় জল্লাদ জলদি করে তরবারী নিয়ে এসে চোর বেটার মাথাটা কেটে ধড় থেকে আলাদা করে দাও । 


এ কথা শুনে প্রকৃত চোর লোকটির গা কম্পন শুরু হয়ে গেলো । এমনি সময়ে জল্লাদ সেখানে উপস্থিত হয়ে যেইনা খাপ থেকে তরবারী বের করেছে , অমনি আসল চোর তার মাথাটা তাড়াতাড়ি ঘরের মধ্যে সরিয়ে নিয়ে গেলো । আর তখনি হযরত আলী ( রাযিঃ ) আসল চোর সনাক্ত করে তাকে ধরে ফেললেন । কারণ লোকটি যদি চোর না হতো তবে তার ভয়েরও কোন কারণ ছিলো না । আর মাথা সরিয়ে নেয়ারও প্রয়োজন হতো না । সে লোকটি অপরাধী ছিলো বলেই তার মন পূর্ব থেকেই দুর্বল ছিলো এবং সে ভয়ে অস্থির ছিলো । 


এমনি উপস্থিত বুদ্ধির গুণেই মহান খলীফা হযরত আলী ( রাযিঃ ) আসল অপরাধীকে সহজে ধরে ফেলতে সক্ষম হলেন ।

(সুত্র-ভোলা যায় না যেসব কাহিনী)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ